ছক সাজিয়ে চিঠি ছেড়েছে বিসিবি!

1157658823_01.jpg

বিসিবির নির্বাচনে কাউন্সিলরশিপ নিয়ে বেচাকেনা হচ্ছে। এ বেচাকেনায় বিপুল পরিমাণ টাকাকড়ি হাতবদল হচ্ছে। আর এটাই প্রমাণ করছে বিসিবির নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া মোটেও গঠনতান্ত্রিক মোতাবেক হচ্ছে না। কাউন্সিলরশিপ চেয়ে বিসিবি যে চিঠি ছেড়েছে তাতে অনেক ভুলভ্রান্তি রয়েছে। প্রথমত কাউন্সিলরের নাম জমা দেওয়ার জন্য যে সময় দেওয়া হয়েছে সেটা খুবই সামান্য। দ্বিতীয়ত বিসিবির প্রদত্ত নির্দিষ্ট একটা ফরমের মধ্যে কাউন্সিলরদের নাম দিতে বলা হয়েছে এ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এম. এম. কায়সার: বিসিবির নির্বাচন হচ্ছে কিছুদিনের মধ্যে। এমন খবর চাউর হয়েছিল সেই জুন থেকেই। কিন্তু নির্বাচনী হাওয়া বইলেও নির্বাচনের জন্য মূল কাজগুলোর কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। সব কিছুতেই একটা বিলম্ব চলছিল। মনে হচ্ছিল কিসের যেন একটা ‘অপেক্ষা’ চলছে।
-এ দেরিটা কেন হচ্ছে?
বিসিবির নির্বাচনে অন্যতম আগ্রহী প্রার্থী সাবের হোসেন চৌধুরী এ প্রশ্নের উত্তরে মাসখানেক আগে বলেছিলেন-‘ছক সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। তাই দেরি করছে বিসিবি।’
সাবেরের সেই অভিযোগ তুড়ি মেরে পরদিন উড়িয়ে দিয়েছিলেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তিনি নিজেও বিসিবির নির্বাচনে ‘বড়’ প্রার্থী।
১৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং সার্ভিসেস দলের কাছে কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি ছেড়েছে বিসিবি।
এবং সেটা যথারীতি দেরিতে।
জুন-জুলাইয়ে নির্বাচনের অনুমতি দিলেন আদালত। গোটা আগস্টজুড়ে পরিকল্পনায় ব্যস্ত বিসিবি। ছক তৈরি হল। সেপ্টেম্বরের অর্ধেক পেরোনোর পর কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি ছাড়ল বিসিবি।
এ চিঠি ছাড়ার পরদিন থেকেই বেশ কয়েক জায়গা থেকে শোরগোল উঠল-‘দুইনম্বরি হচ্ছে বিসিবির নির্বাচনকে ঘিরে।’
সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটা করলেন সাবের হোসেন চৌধুরী স্বয়ং। গতকাল নিজের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাবের বললেন-‘বিসিবির নির্বাচনে কাউন্সিলরশিপ নিয়ে বেচাকেনা হচ্ছে। এ বেচাকেনায় বিপুল পরিমাণ টাকাকড়ি হাতবদল হচ্ছে। আর এটাই প্রমাণ করছে বিসিবির নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া মোটেও গঠনতান্ত্রিক মোতাবেক হচ্ছে না। কাউন্সিলরশিপ চেয়ে বিসিবি যে চিঠি ছেড়েছে তাতে অনেক ভুলভ্রান্তি রয়েছে। প্রথমত কাউন্সিলরের নাম জমা দেওয়ার জন্য যে সময় দেওয়া হয়েছে সেটা খুবই সামান্য। দ্বিতীয়ত বিসিবির প্রদত্ত নির্দিষ্ট একটা ফরমের মধ্যে কাউন্সিলরদের নাম দিতে বলা হয়েছে এ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।’
এদিকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিসিবির কাউন্সিলরশিপ মনোনয়ন নিয়ে নানাবিদ অনিয়ম এবং বাদ-প্রতিবাদের খবর মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে-কে কোন জেলার কাউন্সিলর হবেন সেটা আগেভাগে ঠিক করে নেওয়ার পর বিসিবি কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি ছেড়েছে। সব কিছু ‘ছকে’ নিয়েই বিসিবির অ্যাডহক কমিটির কর্তারা নির্বাচনে নেমেছেন। নিজেদের পছন্দের লোকদের কাউন্সিলর মনোনয়ন দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের কাছে বিসিবি আগেই তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছে।
নির্বাচন এলে সবাই জেতার জন্যই পরিকল্পনা করে। তবে সেই পরিকল্পনা করতে গিয়ে যদি এমন ‘দুইনম্বরি’র আশ্রয় নেওয়া হয়-তাহলে সেখানে আর যাই হোক স্বচ্ছতা থাকে না।
গত ২৫ জুলাই আদালতের অ্যাপিলেট ডিভিশনের এক নির্দেশে বিসিবির নির্বাচনের পথে সব বাধা দূর হয়। কিন্তু ২৫ জুলাই থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর-মাঝের এই ১ মাস ২৪ দিন সময়জুড়ে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির ‘বুদ্ধিমানরা’ বসে নির্বাচনে জেতার আসল হিসাব-নিকাশ কষেন। কোন কোন জায়গায় নিজেদের কাউন্সিলর ঠিক করতে হবে-পরিকল্পনার বেশিরভাগ জুড়ে ছিল সেটাই। দেশজুড়ে ১৭৫ জন কাউন্সিলর থেকে ‘নিজেদের লোক’ বাছাই করার জন্য তো সময় লাগবেই!
মাঝের এই ১ মাস ২৪ দিন তাতেই কেটে গেল!
রাজধানীর ক্লাব ও জেলার কাউন্সিলদের ভজিয়ে বিসিবির ২৪ জন পরিচালকের পদে জেতার জন্য বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি যে ‘ছক’ সাজিয়েছে-সেটা এখন প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় কাউন্সিলর চেয়ে পাঠানো বিসিবির চিঠি কার হাতে জমা পড়েছে সেটা সংশ্লিষ্ট অনেকে জানেনই না! এ প্রসঙ্গে সবচেয়ে বড় অভিযোগ এসেছে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার দুই সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে।
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির সাবেক কাউন্সিলর কাজী শামীম আহসান অভিযোগ করেছেন, তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি পাননি। তবে এটুকু জেনেছেন, কাউন্সিলর চেয়ে বিসিবির একটা চিঠি জেলায় এসেছে। তবে সেটা কার হাতে আছে সেই বিষয়ে তারা অন্ধকারে। শামীম বলছিলেন-‘আমি যতদূর জানি চিঠিটা এখন আমাদের বিভাগের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে আছে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের প্রিয়ভাজন কাউকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিতে সেই প্রভাবশালী ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে নিজের বিভিন্নমুখী ক্ষমতা খাটাচ্ছেন। পছন্দের ব্যক্তিকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিতে এসব প্রভাবশালীরা জেলা প্রশাসককে চাপ দিচ্ছেন। এমন ছক কষে যদি নির্বাচনের আয়োজন করা হয় তবে সেখানে নির্বাচনের প্রয়োজনটাই কী? কাউন্সিলর চেয়ে চিঠি পাঠানোরও তাহলে প্রয়োজন নেই।’
শামীম তার বিস্তারিত অভিযোগে বলেন-‘মাগুরা এবং কুষ্টিয়া ছাড়া খুলনা বিভাগের আর কোনো জেলা ক্রীড়া সংস্থা এখনও কাউন্সিলরশিপের চিঠি পায়নি। কুষ্টিয়া ও মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্তারা আবার নাজমুল হাসান পাপনের প্রিয়ভাজন হিসেবে পরিচিত।’
জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদোয়ান বিসিবির কাউন্সিলশিপের চিঠি নিয়ে বিতর্কে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। রেদোয়ান অভিযোগ করেন, ‘বিসিবির কাউন্সিলর নিয়োগের জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থা আমার নাম সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেন। পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. দেলওয়ার হায়দার অনিয়মের মাধ্যমে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও আমার নাম বাদ দিয়ে বর্তমান সরকারের হুইপ মির্জা আজমের সহোদর মেরলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি মির্জা জিল্লুর রহমান শিপনের নাম কাউন্সিলর হিসেবে বিসিবিতে পাঠিয়ে দেন। বিষয়টি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যদের নজরে এলে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে।’
এদিকে জেলা প্রশাসক দেলওয়ার হায়দার সকালের খবরের জামালপুর প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন-‘বিসিবির সর্বশেষ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমি আমার নমিনি পাঠিয়েছি।’
এদিকে অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে-ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটেও ধুমসে কাউন্সিলর কেনাবেচার বাণিজ্যে নেমেছে বেশ কয়েকটি ক্লাব। বিসিবি কর্তারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করে এসব ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ কিনে নিয়ে সেখানে নিজেদের ‘অনুগতদের’ নাম বসিয়েছেন।
-প্রমাণ খুঁজছেন?
সাবের হোসেন চৌধুরীর মন্তব্যটা আরেকবার পড়ে নিন!

খেলা

বৃষ্টিতে ড্র ঢাকা টেস্ট

সিরিজের একটা নিষ্পত্তির জন্য মুখিয়ে ছিল দুই দল। কিন্তু বৃষ্টির বাধায় ধুয়ে মুছে গেল ঢাকা টেস্টের ...

‘বিশ্বকাপে নেইমারই ব্রাজিলের বাজি’

চলতি বছর ঘরের মাঠে ফিফা কনফেডারেশন কাপ নেইমারের জন্য একটা বড় পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষায় ‘জিপিএ ...

‘ড্রাগসের সঙ্গে আপস নয়’

স্প্রিন্ট জগতে যখন নামি-দামি তারকাদের ডোপপাপের খবর বেরোয় তখন চমকে উঠতে হয় বৈকি! এই তো সেদিন ...

প্রথম ওয়ানডেতে সালমাদের হার

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল স্বাগতিকদের কাছে প্রথম ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে হেরে গেছে। বেনোনির ...

মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ মানেই ম্যাজিক

ব্যাপারটা শচীন বনাম লারার লড়াইয়ের মতোই দাঁড়িয়ে গেছে। কে সেরা-লারা নাকি শচীন। এ প্রশ্নে রায় এখনও ...