মিয়ানমারে সভ্যতা বিবর্জিত হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সংঘনায়ক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও বিশ্ব বৌদ্ধ ভ্রাতৃ সংঘের সহ-সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথেরো   |  মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর অবরোধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ   |  

ভালবাসার ক্রাচ

1445665038_1445615206_valbashar-chrach.jpg

অ্যাই শুনছিস!
হু।
হু না। সিরিয়াসলি....।
তোর কোন্্ কথাটি আমি সিরিয়াসভাবে শুনি না বল মিথিলা।
তুই তো আমারজান।
ফাজলামি রাখ। আমি সিরিয়াস একটা কথা বলবো।
তা বল না। এতো ভূমিকার কী দরকার।
তোর ভালো লাগে কিসে?
হা....হা...হা...। এটা কোনও সিরিয়াস কথা? কি হয়েছে আজ তোর? বাড়িতে ঝগড়া-ফ্যাসাদ লাগিয়ে এসেছিস না কি?
রবিন, তুই তো জানিস, পারতপক্ষে আমি কারও সাথে ঝগড়া বাধাই না। লাগতেও যাই না। এটা আমর পছন্দও না। কিন্তু কাল রাত থেকেই ভাবছি, কথাটা তোকে বলতেই হবে...।
এটা যদি কোনও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, আই মীন কোনও চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে হতো, আমি খুব ভাব-গম্ভীর হয়ে উত্তরটা দিতাম। তুই বলে কথা। তবুও বলি, আমার ভালো লাগে, এখানে বসে তোর সাথে আড্ডা জমাতে। আহ্্! কি মধুর এ আড্ডা। জায়গাটাও কিন্তু বেশ। সবুজ ঘাসের চত্বর। সবুজ সবুজ করে পরিবেশবিদরা যখন তাদের গলা প্রায় শুকিযে চলেছেন, তখনও কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সবুজ জায়গাটা বিবর্ণ হয়নি। বুঝলি, এটাকেই বলে প্রকৃতি। ডানদিকে দাঁড়িয়ে অপরাজেয় বাংলা। এটার দিকে তাকলেই সাহস বেড়ে যায়। সামনে রাস্তা। হেন কোনও যান নেই, যা চলে না। আর একটু দূরেই রোকেয়া হল। কত জনের কত রকমের চলা। জানিস, আমি কি ভাবি?
কি?
যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ না হয়...।
তাই বুঝি?
হ্যাঁ পড়াশোনাটা শেষ হলেই তো এ আড্ডা ছাড়তে হবে। প্রতিদিন নিয়মমাফিক এখানে তোর সাথে বৈঠকটাও হবে না। বাবার হোটেলও শেষ হয়ে যাবে। ধান্দা করতে হবে চাকরির। ধর, কারও দয়ায় যদি একটা চাকরি পেয়েও যাই, তবুও কি রক্ষে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘানি টানতে হবে। এরপর রাতে কি আর এখানটায় আসা যাবে। আর পাশ করার পর তোকেই বা কোথায় পাবো?
কেন?
হু। রাখ রাখ....। তোকে পাবো নিউ মার্কেট কিংবা গাউছিয়ায়..... হয়তো ইয়া গোঁফওয়ালা কোনও ব্যক্তির সাথে হে.... হে... হে...। আমি প্রার্থনা করি, দোহাই আল্লাহর- কোন গোঁফওয়ালা ব্যক্তির সাথে যাতে তোর বিয়ে না হয়। একটুও মানাবে না।
সরি রবিন। আমার প্রশ্নটাই বোধহয় ঠিক হয়নিরে। আমি আসলে জানতে চেয়েছিলাম, তুই কিসে সবচেয়ে সুখি হবি?
দাঁড়া, দাঁড়া..... এটা খুবই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সহজে এমন পশ্ন কেউ করে না। উত্তরটাও জিহ্বার ডগায় থাকে না। একটু ভেবে-চিন্তে বলি...
না। তাড়াতাড়ি বল।
তাহলে এই যে, আড্ডাটা...। এটার কথাই ধর।
ফাজলামো হচ্ছে?
না। তাহলে আর কি। ধর একটা ভালো চাকরি পেয়ে গেলাম। অনেক টাকা মাইনে। অথচ কাজ নেই। কিংবা কাজটা আড্ডা মারা।
আর কিছু না।
আর কি হবে।
জীবন নিয়ে ভাবিস না। সংসার গড়ার, জীবনটাকে সুন্দর করে সাজাবার স্বপ্ন কি দেখিস না?
স্বপ্ন দেখলে তো ঘুমাতে হয়। স্বপ্ন দেখে আমাদের রাজনীতিবিদরা। কত স্বপ্ন। তারা খালি ঘুমায়। এতো না ঘুামলে স্বপ্ন দেখবে কখন। আমার তো ঘুমই আসে না। স্বপ্নটপ্ন দেখি না।
স্বপ্নতো দেখতেই হবে। সুন্দর স্বপ্ন। জীবনের স্বপ্ন। ভঅলোবাসার স্বপ্ন। সংসারের স্বপ্ন। মিথ্যা বলিস না, সিরিয়াসলি বল, সংসারের স্বপ্ন দেখিস না।
আমি কি এতো বোকা? বলতো, আমার মতো এক পা-ওয়ালা ব্যক্তিকে ভালোবাসতে আসবে কে? মিজানের কথা মনে আছে না। ও শালারতো দুটি পা। চারটি হলো রিনাকে ঘরে উঠিয়ে। তোর মনে পড়ে, আমরা কি জোকই না করেছি তাকে নিয়ে। বলেছি, ব্যাটা গাধা হোস না। গাধাদের চার পা থাকে। ও পাত্তা দিলো না। দু’বছরই হযনি মিজান যেন গাধাই হয়ে গেলো। আমার তো পা একটা। বিয়ে শাদি করলে দেখা যাবে এ ক্র্যাচটা আমার মাথায় ভাঙবে বউ। আর বিয়ে মানে হলো, দায়িত্ব কাঁেধ নেয়া। আমার পায়েরই তো জোর নেই। দায়িত্বটা কাঁধে নেবো কী করে।
মিথিলা আসন বদলালো। সাদা পায়জামাটায় ঘাসের দাগ লেগে গেছে। রবিনের ঘনিষ্ঠ হলো। বললো, ক্র্যাচটা তোর অবলম্বন। ক্র্যাচ ছাড়া তুই অচল। কিন্তু এই ক্র্যাচ আর্টিফিশিয়াল। বার বার বদল করতে হবে। কিন্তু তোর স্ত্রী ক্র্যাচ হবে সারা জীবন, সারা মুহূর্তের, এটা কি ভাবিস না।
না, রবিন বললো। এক সময় ভাবতাম, অনেক ভাবতাম। নতুন কাউকে দেখলেই রাতে স্বপ্ন দেখতাম । কতজনের কত গিফটই না পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও কি কম ভালোবাসা পেয়েছি। কতজন আমাকে নিয়ে  স্বপ্ন দেখেছে। ভালোবাসার কথা বলেছে। দেখ, যেই না পা হারালাম, অমনি সব হাওয়া। ল্যাংড়া, পঙ্গুর সাথে প্রেম করবে কে। আই হেট উইমেন...। উহ্্! দিজ ইজ নট ট্রু। ইউ আর ভেরি মাচ এক্সেপশনাল। তোর ক্ষেত্রে উল্টোটা হয়েছে। শুরুতে ছিলি দূরে। এখন সবচেয়ে কাছের বন্ধু। ভেরি ইন্টারেস্টিং...।

আচ্ছা, এ অবস্থায় কেউ যদি তোকে বলেÑ আই লাভ ইউ...। সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। তুই ভীষণ অবাক হবি, তাই না?

মোটেই না। এমন একটা দৃশ্য কোন্্ বাংলা ছায়াছবিতে যেন দেখেছি। মনে পড়ছে না। তবে, অবাক হবো না। ভাববো, মেযেটির যাওয়ার কোনও জায়গা নেই। পারিবারিক চাপে বাধ্য হযেছে। আমাদের সমাজে এমন ঘটনা অহরহই ঘটছে। পকেটে পয়সা এলেই পুরুষ ভ াইদের বিয়ের নেশা পেয়ে বসে। তবে পাত্রী খোঁজে কচি। টাকার লোভে কিংবা অসহায়ত্বের কারণে কত মেয়ে তার সাধ-আহ্লাদ পরিত্যাগ করে, ভাববো এমন কোন ঘটনাই হয়তো ঘটে গেছে।

তুই কি মনে করিস, আমার যাওয়ার কোনও রাস্তা নেই? আমি অসহায়? তুই আমার চেযে বেশি অর্থের মালিক?
কি বলছিস তুই। এর সাথে তোর সম্পক র্কি?
আছে। অবশ্যই আছে। আমি তোকে ভালবাসি। শুধু ভালবাসি না। আই হ্যাভ ডিসাইডেট টু ম্যারি ইউ...। দিজ ইজ নট ফান অর জোক। অ্যাবসলিউটলি ট্রু। রবিন, আমি তোকে বিয়ে করতে চাই। সত্যি বলছি, সত্যি। এক সত্যি, দুই সত্যি, তিন সত্যি। কথা দে ফিরিয়ে দিবি না....।

টিএসসি’র সামনে গোল চক্করে এসে একটি মিনিবাসের চাকা ফেটে গেলো বিকট শব্দে। রবিন ভাবলো, তার হৃৎপিন্ডটাই মনে হয় বিস্ফোরিত হয়েছে। মিথিলা কি পাগল হয়ে গেছে। ওর সাথে তো রবিনের বন্ধুর সম্পর্ক। তুই তুই ভাব।  চা বিক্রেতা কাশেম মামা থেকে শুর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই জানে। মিথিলার পরিবারও জানে। জানে রবিনের পরিবার। বন্ধুত্বের বয়সও হয়ে গেছে দু’বছর?। কল্যাণপুরে বাস দুর্ঘটনায় যখন পঙ্গু হাসপাতালে আর্তনাদ করছিলো রবিন, তখন চোখ খুলেই মিথিলাকে কাছে পেয়েছিলো। সেই দিন অনেকেই হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেছে। রবিনের থেথলানো পা’টা দ্রুত কাটার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু রবিনের মনের জোরটা একটি বারের মতো নষ্ট হতে দেয়নি মিথিলা। রবিন যতদিন পঙ্গু হাসপাতালে ছিলো, মিথিলা প্রতিদিনই গেছে। কোনো কোনো দিন একাধিকবার।

মিথিলা বলেছে, বন্ধু হিসেবে যতটুকু তার দায়িত্ব, ততটুকুই সে পালন করছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও ক্রাচে ভর দিয়ে মিথিলাদের বাড়িতে গেছে রবিন। পা থাকা অবস্থায়ও গিয়েছে। তখন সবার চাহনি কেমন ছিলো সন্দেহে ভরা। কিন্তু সেবার সবাই রবিনকে অসম্ভব ভালোবাসা দেখায়। রবিন বুঝতো, এটা পা হারানোর কৃতিত্ব কিংবা প্রাপ্তি। পা হারিয়ে সবার সহানুভুতি আদায় করতে পেরেছে সে। এক সময় মিথিলাকেও ওই গোত্রেরই মনে হতো রবিনের। পরে ভেবেছে বন্ধু। ¯্রফে বন্ধু...।

রবিনের চিন্তা বেশি দূর এগুতে পারলো না। থামিয়ে দিলো মিথিলা। বললো, অবাক হয়েছিস নিশ্চয়ই। এও ভাবছিস, বন্ধু হয়ে হঠাৎ তোর বউ হতে চাইছি কেনো? হঠাৎ করে কেনো ভালবাসতে গেলাম। সব প্রশ্নের উত্তরই আছে আমার কাছে। কিন্তু এখন বল, তুই রাজি কিনা। রবিন, জাস্ট তুই আমকে তোর ক্লিয়ারেন্সটা দে। বাকিটুকু আমার ব্যাপার। আমি সিরিয়াসলি নিয়েছি বিষয়টি। তোর উত্তরটা পেলেই বাসায় বলবো।

আগুনে পোড়া কালো কাঠের মতো চেহারা হয়েছে রবিনের। কাঁপছে সে। মিথিলা এমন কাজ করবে, সে ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি। প্রথমে ভেবেছিলো, নেহায়েতই কৌতুক করছে। রবিন-মিথিলার সম্পর্ক একেবারেই স্বচ্ছ। এমন কোনো বিষয় নেই, যা দুজন আলাপ করে না। সেই স্বামী-স্ত্রীর রগড় কাহিনী থেকে শুরু করে দেশ, রাজনীতি, অর্থনীতি- সব বিষয়ই থাকে। মিথিলা কখনও কখনও তার ভবিষ্যত জীবনের কথাও বলেছে। কিন্তু...।

মিথিলা বললো, শোন রবিন, সত্যি বলছিÑ আমিও কখনও ভাবিনি যে, তোকে এতো ভালবাসি। ভাবতাম, তুই আমার খুবই ঘনিষ্ট বন্ধু। কেবলই বন্ধু। কিন্তু কাল রাত থেকে আমি তোকে নিয়ে খুব ভাবছি। জানিস, কাল আমরা ছোট খালার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। আসলে এই বোড়ানোটা হঠাৎ করেই হয়েছে, এটাই জানতাম আমি। কিন্তু খালার  বাসায় যাওয়ার পর বুঝলাম, শুধু আমিই জানি না- আর সবাই জানে। জানিস রবিন কাল না আমাকে দেখতে এসেছিল। পাত্র আমেরিকান ইমিগ্র্যান্ট। সুদর্শন। চালচলন একইরকম। আর দশটা বিদেশ থাকা ছেলের মতোই।  হাতে, গলায় মোটা সোনার চেইন। কথা বলে আস্তে আস্তে। যদিও আমার ধারণা এটা আসল নয়। মেকি। আমেরিকায় যে ছেলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, তার কণ্ঠ আরেকটু হলেও স্ট্রং হওয়ার কথা।

মিথিলাকে থামিয়ে দিল রবিনÑ ভালোইতো। এমন পাত্রই তো মানাবে তোর সাথে।

বাজে বকিসনাতো। আমাকে আগে বলতে দে- মিথিল আবার শুরু করলোÑ হ্যাঁ, বাসার সবাইতো ভীষণ খুশি। ছোটখালা পাত্রটা এনেছে। কাজেই তার তো তরই সইছে না। পারলে কালই তিনি আমাকে বিয়ে দিয়ে দেন। বলেন, এমন পাত্র হাজারে একটা।  হাতছাড়া করা যায় না। সুপাত্র খুঁজতে খুঁজতে ইদানীং বাবা-মায়েরা অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। তাদের কারণে ঝাকিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে ম্যাচ মেকিং সেন্টারগুলো। মিথিলার কপাল খুবই প্রশস্ত। দেরি করা ঠিক না।
তুই কি বললি?
মিথিলা বললো, আমি কিছু বললাম না। শুধু মিটি মিটি হাসলাম। সবাই ভাবলো আমি রাজি। বুঝতেইতো পারছিসÑ আমেরিকা বলে কথা। কত মেয়ে স্বামী-সংসার ত্যাগ করে আমেরিকান ছেলের পেছনে ছুটে। আর আমিতো একা। ছোট খালাকে বললাম, চব্বিশ ঘন্টা সময় দাও। আমি ফাইনাল ডিসিশনটা দেবো। তবে তার আগে পাত্রের ব্লাড টেস্টটা জরুরি। ছোট খালা চোখ কপালে তুললেন। আমি বললাম, খালা জানোইতো কি সব এইডস-ফেইডসের যুগ শুরু হয়েছে। আর যা কিছুতে মরি বাপু, এইডসে মরতে রাজি নই। ছেলে ভালো না খারাপ- ওই এক টেস্টেই যাচাই হয়ে যাবে।

চোখ কপালে উঠলো রবিনের। পরক্ষণেই হাসতে শুরু করলো। ক্রমেই তার হাসির মাত্রাটা বেড়ে গেলো। কারণ সে জানে মিথিলার জন্য এমন কথা বলা অসাধ্য নয়। মেয়েটা সরল ভীষণ। আবার ভীষণ দুষ্ট। বাঁকানো শরীরটার মতোই মাথায় তার চিকন বুদ্ধি।

মিথিলা বললো, হাসিস না। তোকে বিয়ে করলেও কিন্তু আমি ওই রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেবো। ওর বাপস ! জেনেশুনে বিষ পান করতে পারবো না।
এবার একটু ঢোক গিললো সে। ওড়না দিয়ে মুখটা পরিষ্কার করে নিলোÑ আসলে ছেলেটিকে আমার কাছে মোটেও এক্সেপশনাল মনে হয়নি। মনে হয়নি হাতে, গলায় সোনার মোটা চেইন দেখে। মনে হয়েছে সে তার পয়সার গরম দেখাচ্ছে আমাকে। ছোট খালা না থাকলে আমিতো ছেলেটিকেই রক্ত পরীক্ষার কথা সরাসরি বলতাম। শোন, ছোট খালা কি বললো জানিস। কমপক্ষে দশবার ছি:ছি: করলো। বললো, বিশ্ববিদ্যালয়ে তো আমরাও পড়েছি। আমরাও তো বিয়ে করেছি। মুরুব্বীরা জিজ্ঞাসাও করেননি। কিছুই বলেননি। এ যুগে তোদের মতামত নেয়া হচ্ছে বলে মুখে যা আসছে, তাই  বলবি- এটা ঠিক না। তোরাতো বলবিই, তোদের মুখে কিছু আটকাবে না। আটকাবে কি করে শিক্ষকদের সাথে ছাত্রীরা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছে। লজ্জা, শরমের মাথা খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিতে গলিতে জুটি তাড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। অন্ধকার স্পটগুলোতে বাতি পর্যন্ত লাগাতে হচ্ছে।

ছোট খালা ভেবেছিলেন আমি লজ্জা পাবো। কিংবা রাগ করবো। আমি কি বলেছি জানিস, হেসে হেসে বলেছি, খালা যতই রাগ করো, সত্যি কথা বলবোই। কারণ শরীরটাতো আমার...।

ছোট খোলা তখন কি করলো জানিস। এক দৌড়ে গেলো মায়ের কাছে। রাগ করেই বললো, আসকারা দিয়ে মিথিলাকে মাথায় তুলেছো। কি এসব আজেবাজে কথা বলে। ওকে আজই বিয়ে দিয়ে দাও। মা শুধুই হাসেন। বলেন, মিথিলাতো ওরকমই। আর যে কটা দিন এ বাড়িতে আছে ওর ক্যারেক্টারটা পরিবর্তনের দরকার কী। স্বামীর বাড়ি গিয়ে সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।

মিথিলার সাথে প্রতিটি আড্ডায় দু’একবার ঝগড়া হয় রবিনের। আজ সত্যিই ব্যতিক্রম দিন। রবিন শ্রোতা। আর বক্তা মিথিলা।
হু, শেষ হয়নি। মিথিলা শুরু করলো আবার- শোন! ছোট খালার সাথে কথা বলার পরই ঠিক করলাম আমি তোকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবো না। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ । তুই কিন্তু মনোযোগ নিয়ে শুনবি। এগুলো দরকার। তোর সিদ্ধান্ত নিতে কাজে লাগবে।
শোন, প্রথমে আমি চোখ বন্ধ করে ভাবার চেষ্টা করলাম ওই ছেলেটার সাথেই যেন আমার বিয়ে হয়েছে। কল্পনা করলাম চলে গেছি নিউইয়র্কে। টাইম স্কোয়ারের আলোগুলো চোখে ঝিলিক মারছিল। তখনই তোর কথা খুউব মনে হলো। অনুভব করলাম তুই পাশে নাই। বুকে কষ্ট লাগলো ভীষণ। চিন চিন করে ব্যথা হলো। বুঝলাম তোকে আমি ভালোবাসি। খুউব ভালোবাসি। তোকে ছাড়া আসলেই আমার জীবন চলবে না।
রবিন শোন, তুইই বল আমার মতো করে তোকে বোঝার মতো কেউ কি আছে? উত্তর আমিই দেই- নেই। নেই। নেই। আমি দেখেছি। তুইতোর ক্রাচটাকে কত ভালোবাসিস। কত আপন ভাবিস। এটা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমারতো কোনও কিছুরই অভাব নেই। শুধু অভাব ভালোবাসা। তুই তোর ক্রাচটাকে যেমনি করে ভালোবাসিস, আমাকে কি পারবি না। বল না লক্ষ্মীটি বল। তাছাড়া তোর একজন বিশ্বস্ত সঙ্গীও তো দরকারÑ ঠিক কিনা। তুই পা হারিয়েছিস, আমার সাথে তোর বন্ধুত্বের ঘাটতি তো হযনি। তুই বলেছিস, অনেকেই চলে গেছে, অবজ্ঞা করে। আমি তো আছি। থাকবো।
থামিয়ে দিল রবিন। বললো, বাংলা ছায়াছবির মতোই হয়ে যাচ্ছে না কাহিনীটা!
হচ্ছে। তো  হোক না। ছবির সব কাহিনীতো আর অলীক নয়। সব কল্পনার মধ্যেই কিছ ুনা কিছু বাস্তব ঘটনা থাকে। আমাদেও ক্ষেত্রেও হতে পারে। হোক না বাংলা সিনেমার কাহিনী। তবুও আমি তোকে চাই। এই এ জায়গা থেকে আমি চিৎকার করে সবাইকে বলতে পারবো, হ্যাঁ তোকে ভালোবাসি। তুই আমার হবু বর। তোকে আমি জীবন সঙ্গী করতে চাই। আরও শুনবি, আর ও.....।

মিথিলার মুখে হাত চাপা দেয় রবিনÑ কি পাগলামি করছিস।

নো, নো  মাই ডিয়ার। এখন আমি পাগলামি করছি না মোটেও। আমি সিরিয়াস। খুবই। তুইতো জানিস আমি পাগলামি শুরু করলে কি করতে পারি। আমি যেটা চাই। সেটাই হবে। হতে হবে।

তুই কি আমাকে করুণা করছিস। ভাবছিস, তুই না থাকলে এক পা ওয়ালা মানুষটাকে কেউ ভালোবাসবে না। আমি কারও সহানুভূতি, করুনার পাত্র হতে চাই না। এটাই আমার প্রতিজ্ঞা।

গুড! আই লাইক ইট। ভালোবাসা করুণা নয়। কেউ চোখ দেখে ভালোবাসে। কেউ শরীর, কেউবা মন। আমি তোর কোন কিছু দেখেই ভালোবাসিনি। ভালোবেসিছি তোর ক্রাচটা দেখে। আমি তো ক্রাচ হতে চেয়েছি। তুই পরম মমতায় আমাকে তোর বুকে আগলে রাখবি। টিক আছে, একান্তই যদি কখনও সেকেলে, পুরনো মডেল মনে হয়, ফেলে দিবি। আমি মাইন্ড করবো না। কিন্তু এখন রাজি হয়ে যা। চব্বিশ ঘন্টা ডেডলাইন। সময় কিন্তু বেশি হাতে নেই। ছোট খালার কাছে রিপোর্ট করতে হবে। ওই আমেরিকান ইমিগ্র্যান্ট কিন্তু টেনশনে আছে।

হঠাৎ করেই ক্ষেপে উঠলো রবিন। বললো, মানুষকে ইনসাল্ট করারও একটা মাত্রা আছে। আই ডিড নট এসপেক্ট ফ্রম ইউ। দিনের পর দিন আর মাস ধরে তুই আমার পার্সোনালিটি, মোরালিটির প্রশংসা করলি। আজ আমাকে অপমান হওয়ার জন্য ঠেলে দিচ্ছিস। একবার ভাবতো, তুই যখন বলবি তোর বাসায়, তখন রিঅ্যাকশন কি হবে। ওহ! মাই গড। আমি ভাবতে পারছি না। প্লিজ! মিথিলা পাগলামি করিস না। এটা সত্যি, আমি তোকে ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি। আমি তোর ভালো  চাই। কিন্তু এ অবস্থায় আমাকে লজ্জা দিস না।

থ্যাংক ইউ মাই ডিয়ার। আই ওয়ানটেড টু হিয়ার সাচ এ ওয়ার্ড। হ্যাঁ, আমার পরিবারের কে কি বলবে সেটা আমি জানি। লিস্ট ধরে বলতে পারি। শুনবি। মা বলবে, পাগলামি করিস না মিথিলা। ওর এক পা নেই। এখন ভালোবাসার কথা বলছিস। পরে পস্তাবি। বাবা বলবে, ছিঃ মা। পাগলামি করিস না। নিজের ভালোটা বোঝ। ভাইয়া বলবে, কই হারামজাদাটা কই, ওর জীবন আমি শেষ করে দেবো। ছোট খালা বলবেন, ও নষ্ট হয়ে গেছে....।

স্টপ! স্টপ!! চিৎকার করে উঠলো রবিন। খুবই বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমি আর শুনতে চাই না। ভাল্লাগছে না। প্লিজ তুই বরং চলে যা মিথিলা। আমি আর সহ্য করতে পারছি না।

মিথিলা উঠে দাঁড়ালো। ওড়নাটা ঠিক করলো সময় নিয়ে। পায়ের স্যান্ডেলটা পরলো। বললো, শুধু ওদের কথাই শুনলি। আমি কি বলবো জানতে চাইলি না।

না। দু’হাত দিয়ে কান চেপে ধরলো রবিন।
আমি বলবোÑ সব সত্যি কথা। তোমরা যা বলেছো এক বর্ণও মিথ্যে নয়। এটা আমিও জানি। এরপরও রবিনকেই বিয়ে করবো আমি। এটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এতে বাড়ি ছাড়তে হলে ছাড়বো। প্রতিটি মেয়েকেই একটা সময়ে বাড়ি ছাড়তে হয়। আমিও ছাড়বো। এখন তুই হ্যাঁ বল। তা না হলে আমি বাড়ি ছেড়ে উঠবো কোথায় বোকা ছেলে। মিষ্টি করে হেসে বলÑ ইয়েস। প্রিয়তমা আমি রাজি। সব ল্যাঠা চুকে যায়।

ক্রাচটা হাতে টেনে নেয় রবিন। প্রস্তুতি নেয় উঠে দাঁড়ানোর। মিথিলা তুই কি মানুষ। আমি কিন্তু কষ্ট পাচ্ছি।

মিথিলা হাঁটা শুরু করলো। হাত নাড়িয়ে বললো, বাস বোধহয় এসে গেলো। দরকার হলে কাজি অফিসে আগেভাগেই বিয়েটা সেরে ফেলবো। রেডি থাকিস। বাই....

অপরাজেয় বাংলার সামনের সবুজ চত্বরে দুদিন ধরে মিথিলা আর রবিনের আড্ডা জমছে না। মিথিলা ক্যাম্পাসে আসছে না। রবিন আসছে। অপেক্ষা করছে।  চলে যাচ্ছে। মাঝে মাঝেই ফোন করার ইচ্ছে হচ্ছে মিথিলার কাছে। কিন্তু সাহস হচ্ছে না। ভয়, লজ্জা তাড়া করছে। কি হলো মিথিলার? যে পাগলাটে ধরণের। নিশ্চয় বাসায় সব বলে ফেলেছে। এরপর....।

না, চিন্তা করা যায় না। তাকে কি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে? সেক্ষেত্রে রবিনের কাজ কি হবে, সে কি ওই বাসায় যাবে। মিথিলাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করবো! যাহ্্! এটাই বা করে কিভাবে।

রবিনের বুকেও চিন চিন করে ব্যথা হয়। মিথিলাকে সে ভালোবাসে। পেলে খুশি হবে। কিন্তু সাহস হয় না। আচ্ছা! এমনওতো হতে পারে সবাই বুঝিয়ে শুনিয়ে মিথিলাকে রাজি করিয়ে ফেলেছে। আর মিথিলা এখন মধু চন্দ্রিমায।
না। এমন বাজে বিষয় মাথায় চিন্তাই করা উচিত নয়। নিজেকে প্রবোধ দিলো রবিন। মিথিলাকে সে যতটুকু জানে, তাতে সে জীবন দিতে পারে। কিন্তু আত্মসমর্পণ করবে না। মেয়েটা খুবই সরল। তবে, উচ্ছ্বল। কিন্তু আবার কঠিন, আদর্শগত কারণে। এটাই তার সৌন্দর্য।

রবিনের চিন্তায় ছেদ পড়লো হই চইয়ে। হঠাৎ করেই টিএসসি এলাকায় ছুটোছুটি শুরু হয়। বাতাসে কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধ। পুলিশের লাঠিচার্জে সবাই ছুটছে দিগি¦দিক। কি হলো আজ। কোন দলের কর্মসূচি ছিল? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম প্রথম দাঙ্গা পুলিশ দেখলে ভীষণ ভয় লাগতো রবিনের। এখন লাগেনা। গা সওয়া হয়ে গেছে। মাঠে বসে বাদাম চিবাতে চিবাতেই দেখে অস্ত্রের লড়াই। দারুন তৃপ্তিতে উপভোগ করে গুলির শব্দ। কত কিছু হয়েছে চোখের সামনে। মিথিলার সাথে আড্ডা ভেঙ্গে যায়নি। আজতো সে ভীষণ একা। মিথিলার যে কি হলো। টিএসসির এ ঘটনা নিয়ে তার কৌতুহল নেই। চুলোয় যাক সব। রবিনের মন ভালো নেই। ক্রাচে ভর করেই রবিন রওনা দিল ক্লাস রুমের দিকে। তখনই তার নাম ধরে পেছন থেকে নারী কণ্ঠের ডাক। রবিন ঘুড়ে দাঁড়ালো। না, মিথিল নয়। মেরিনার গলা।

রবিন শুনেছিস ঘটনা। এইমাত্র সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মিথিলাকে ঢাকা মেডিকেলের ইর্মাজেন্সিতে নেওয়া হয়েছে।

কি! মাথা ঘুরে গেলো রবিনের। গলা শুকিয়ে গেলো। বুকের মধ্যে ধপ করে চাপা পড়লো বিশাল এক পাথর। শব্দ যেন হারিয়ে গেলো মুখ থেকে । নিজের অজান্তেই বলে ফেললোÑ কিহয়েছে আমার মিথিলার?
মেরিনা বললো, অ্যাকসিডেন্ট। তবে বোঝা যাচ্ছে না। বাস থেকে নামতে গিয়ে কেউ ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো,  না সে নিজেই পড়লো? ছাত্ররা বাসটা পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা গাড়ি ভাঙচুর করছে। পুলিশ এসেছে। টিয়ারগ্যাস মেরে আর লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে। দেখছিস না টিএসসি চত্বর উত্তপ্ত।
মেরিনার কোন কথার জন্যে অপেক্ষা করলো না রবিন। ক্রাচে ভর করেই দ্রুত রাস্তায় উঠে এলো। এই রিকশা ঢাকা মেডিকেল.... বলেই উঠে গেলো। প্যাডেল মারছে রিকশাচালক। সহ্য হচ্ছে না রবিনের। জোরে চালাও আরও জোরে। টিএসসিতে গন্ডগোল। ফুলার রোড, জগন্নাথ হলের পেছন দিয়েই রিকশা ছুটলো মেডিকেলের দিকে। শহীদ মিনারে আসতেই শুনলো অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। দ্রুত বেগে একটি অ্যাম্বুলেন্স বিপরীত দিকে ছুটে গেলো। অ্যাম্¦ুলেন্সের শব্দ এমনিতেই কষ্টের।

পনের মিনিট লাগলো রবিনের ঢাকা মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে পৌঁছতে। পনের মিনিট নয় যেন তার মনে হলো ১৫ মাস। উহ্্। অসহ্য। হৃদপিন্ডের রক্ত সঞ্চালনের গতি খুবই তীব্র। হাঁপাচ্ছিলো রবিন। রিকশা ইমাজেন্সিতে থামতেই লাফিয়ে পড়লো সে। ভুলে গেলো তার যে এক পা নেই। দৌড়ে এলো মাসুদ, সোহেল, রনি আরে করিস কি! পড়ে যাবিতো। মিথিলা এখানে নেই। এইমাত্র অ্যাম্বুলেন্সে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হযেছে। আল্লাহর অশেষ রহমত। প্রাণে বেঁচে গেছে। ডান পায়ের উপর দিয়ে চাকাটা গেছে। মনে হয় পাটা কেটেই ফেলতে হবে।

হাউমাউ করে কেঁদে ফেললো রবিন। হাত থেকে ক্রাচটা খসে পড়লো। ভারসাম্য হারালো।

মাসুদ, সোহেল রনি তাকে স্কুটারে উঠালো।  বললো, চল পঙ্গুতে যাই। ওখানে পরিচিত ডাক্তার আছে। রনি যাবে ক্যাম্পাসে। সবাইকে খবরটা দিতে হবে। রক্তের প্রয়োজন হতে পারে।
যানজট পেরিয়ে পঙ্গু হাসপাতালে পৌঁছতে প্রায় ঘণ্টাখানেক লাগলো। উত্তেজনায় কাঁপছে রবিন। একদম চুপ। কোনও কথাই বলছে না। পঙ্গু হাসপাতালে প্রচন্ড ভিড়। আজ নগরীতে মনে হয় বেশি দুর্ঘটনা হযেছে। কিন্তÍু কোথায় মিথিলা? রবিনের চোখ খুঁজে স্ক্যান করে ফেললো ওয়ার্ড, বারান্দা ।
 না, নেই কোথাও। ইমাজেন্সির খাতা চেক করে চিৎকার দিল মাসুদ। বললো, ওটিতে মিথিলা। চল রবিন। দ্রুত পা চালা।
পঙ্গু হাসপাতাল রবিনের অনেক চেনা। তার ডান পাটা এখানেই কেটে রাখা হয়েছে। আজ তার প্রিয়তমার ভাগ্যে কি আছে কে জানে।
অপারেশন থিয়েটারের সামনেও ৪ জন রোগী আহাজারি করছেন। তারা সিরিয়ালে আছেন। অপারেশন হবে। ওটির দরজা ঘেঁষেই বেডে শোয়া মিথিলা। তার সংজ্ঞা ফিরেছে। দূর থেকেই দেখা যাচ্ছে। ব্যথায় কোঁকাচ্ছে। তাকে ঘিরে আছেন ডাক্তাররা। ওটিতে ঢোকানোর আগে শেষ পরীক্ষা। রবিন পৌঁছে গেলো মিথিলার  কাছে। চোখ ফেরালো মিথিলা। ব্যথাতুর চোখেই হাসলো জোর করে। বললো, কিরে, রবিন, এবার রাজি হবি তো? মাথাটা কাছে আন। ইমপরটেন্ট কথা আছে।
রবিন ঝুঁকে কান নিয়ে গেলো মিথিলার কাছে। ফিস ফিস করে মিথিলা বললো, শোন রবিন, এখানে থেকে তোর লাভ নেই। আমাকে তো নিয়ে যাবে অপারেশন থিয়েটারে। তুই বরং কাজ কর, ক্রাচের দোকানে যা। একটা সুন্দর, খুবই সুন্দর দেখে তোর পছন্দের একটা ক্রাচ কিনে নিয়ে আয়। মনে রাখিস খুব সুন্দর যেন হয়। বিয়েতে এটাই আমি চাই তোর কাছে। আমার প্রিয় উপহার। হ্যাঁ, রে, এক পা ওয়ালা বরের বধুরওরতে এক পা-ই থাকতে হয়Ñনারে? আমাদের দারুন মানাবে কিন্তু। আমি শিওর এবার দু’জনকে কেউ বাধা দেবেনা। আর তুই গড়িমসি করবি না। কি ঠিক?
উত্তর নেই রবিনের মুখে। পৃথিবীর তাবৎ ভাষাই যেন তখন হারিয়ে গেছে। রবিন অনুভব করছে তার মাথাটা ঘুরছে। পঙ্গু হাসপাতালের ছাদটাও যেন দুলছে। ঘুরছে পৃথিবী। রবিন বাষ্পরুদ্ধ হয়ে উঠলো। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো পানি। পরম মমতায় মিথিলার মুখ টেনে নিলো বুকের কাছে।
ওটির দরজা খুলে গেলো। নাক-মুখ ঢাকা সবুজ এপ্রোন পরা ক’জন মিথিলার বেড টেনে নিয়ে গেলো ওটির ভেতরে। হাত নেড়ে মিথিলা বললো- অপেক্ষা করিস। আমি আসছি।

দৈনিক মানবজমিন-এর ঈদ সংখ্যা ২০০২-এ প্রকাশিত।

গল্প

রুবির আদর্শলিপি পাঠ

ট্রিং....টুং... টাং....বসের রুমের কলিংবেলটি বেজে উঠলেই রুবির বুকে ধরফরানি শুরু হয়। তার চোখ চলে যায় ইদ্রিসের ...

লক্ষ্মী কোথায়

এক্সিউজ মি...পথ আগলে দাড়ালো মেয়েটি। ভীষন অবাক শিশির। চোখে ভুল দেখছে না’ তো। অবাক হওয়ার পালা- ...