মিয়ানমারে সভ্যতা বিবর্জিত হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভার সংঘনায়ক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি ও বিশ্ব বৌদ্ধ ভ্রাতৃ সংঘের সহ-সভাপতি শুদ্ধানন্দ মহাথেরো   |  মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর অবরোধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ   |  

এটাইতো বিশ্বকাপ ফুটবল!

1402679293_brazil-cup-p.jpg

শহিদুল আজম:  এটাই হলো বিশ্বকাপ ফুটবল-এক গোলেই থেমে যাবে সব যুদ্ধ! হ্যাঁ, ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার যেন সত্যটিকে আবারও প্রতিষ্ঠিত করলেন। বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেও যেখানে ব্রাজিলের পুলিশকে বিক্ষোভ থামাতে হয়েছে। নিজেদের গাড়ি হারাতে হয়েছে বিক্ষোভকারীদের হাতে। সেই ব্রাজিলের পরিস্থিতিই আস্তে আস্তে পাল্টাচ্ছে- অন্তত বিশ্ব মিডিয়ার খবর এমনই। বলা হচ্ছে, ব্রাজিল সরকার অসন্তোষ কমাতে না পারলেও নেইমারের দুদুটি গোলের পর ব্রাজিল আস্তে আস্তে সাম্বার দিকেই যাচ্ছে। যদিও উদ্বোধনী ম্যাচের পর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট আর সেদেশের ফুটবল সংস্থার প্রধানের প্রতি সে সেদেশের সাধারণ মানুষ ঘৃণা জানিয়েছে। এমনকি জাতীয় পতাকায়ও আগুন দিয়েছে। দরিদ্রদের জন্যে সরকারের অবহেলার কথা এখনও উচ্চারিত হচ্ছে। এরপরও সোনার কাপটি কিন্ত্ত তারাই নিতে চাইছে। আর না পাওয়ার সেই কষ্টে নেইমার আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখালেন ব্রাজিলিয়ানদের। এ কথা বলাই যায়, নেইমার ব্রাজিলের রাজনীতিবিদদের যেন বড় বাঁচাই বাঁচিয়ে দিয়েছেন ।গেলো সাত মাস ধরে তারা যে অসন্তোষে একটুও পানি ঢালতে পারেননি, নেইমারের কল্যাণে তারা হাঁফ ছাড়ার আলো দেখছেন । আর তাই ব্রাজিলের পত্র-পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো খবর দিচ্ছে- ‘এবার সাম্বা হবে।‌‌‌ অবশ্য ক্রোয়েটদের দু:খের শেষ নেই। পেনাল্টি নিয়ে তারা ভীষন ক্ষুব্ধ। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা বিশ্ব মিডিয়ার সামনে টিপ্পনিই কেটেছেন আয়োজকদের নিয়ে। তারা বলেছেন, প্রতিযোগিতার আর দরকার কি- ব্রাজিলকে কাপটা দিয়ে দিলেই হয়!পেনাল্টি নিয়ে যতই ক্ষোভ থাকুক, ক্রোয়েশিয়ার এ কথার গুরুত্ব মাঠেই হারিয়ে গেছে ব্রাজিলের তৃতীয় গোলের পর।

এক সময়  ঢাকার মাঠেও পেনাল্টি নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটতো। বিশেষ করে আবাহনী, মোহামেডানের মতো বাঘা বাঘা দলের বিপক্ষে পেনাল্টি দিলে রেফারিদের নিস্তার ছিল না । মুহূর্তেই তাদের দুই একটা চড় থাপ্পর হজম করতে হতো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। তখন রেফারিরা অসহায়ের মতো ছুটতেন সাইড লাইনের পাশে থাকা পুলিশের সহায়তার জন্যে। খুলনার রেফারি মনসুর ঢাকার ফুটবলারদের অসহিষ্ণু আচরণের পরিবর্তন ঘটান। টপাটপ পকেট থেকে লাল আর হলুদ কার্ড বের করে বুঝিয়ে দেন শাস্তির কোনো বিকল্প নেই। ফেডারেশনের কর্মকর্তারা অবশ্য রেফারি মনসুরকে অনেক বছর সাহস যুগিয়েছিলেন।আর্ন্তজাতিক ম্যাচেও তারা দায়িত্বপালন প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বকাপে তো আর এমন সুযোগ নেই। মাঠে রেফারির ওপর চোখ রাঙালে বহিষ্কার! কাজেই ক্ষোভ ঝারুন মিডিয়ার কাছে। অবশ্য যেভাবে বিষোদগার করা হচ্ছে, তাতে উদ্বোধনী ম্যাচের রেফারির কপালে কি আছে, সেটি স্পষ্ট নয় এখনও। ১৯৯০ এর বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি ছিলেন ম্যাক্সিকান কোডেসাল। তাকে নিয়ে অনেক বছর বিতর্ক হয়েছে। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দেয়া তার সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে ম্যারাডোনা এমনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে, প্রতিবাদ করতেন, যখন বাড়ির দর্শকদেরও মনে হতো আর্জেন্টিনা রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছে।জার্মানির বিরুদ্ধে ফাইনালে ম্যারাডোনাকে লালকার্ডও দেখিয়েছিলেন কোডেসাল।যাইহোক, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় আর সমর্থকদের ক্ষোভে তো আর ফিফা তাদের কে কাপ ফিরিয়ে দেয়নি। কিন্ত্ত লাভ হয়েছিল ঢাকার এক পোস্টার এবং ভিউকার্ড ব্যবসায়ীর।কান্নারত ম্যারাডোনা আর রেফারি কোডেসালের ছবি ছাপিয়ে এবং রেফারির কালো হাত শিরোণাম দিয়ে বাজারে ছেড়ে দেয়া বিশাল আকৃতির পোস্টারে তার বেশ আয় হয়েছে। এদেশে ক্রোয়েশিয়ার খুব বেশি সমর্থক নেই । তাই উদ্বোধনী ম্যাচের রেফারিকে দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ নেই।

তবে নেইমারের মতো একজন ফুটবল তারকা কেনো জন্ম নিলো না এদেশে- এ কথা ভেবে খানিকটা কষ্ট পেতে পারেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ।কারণ ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বেশ কজন সংগঠন ছুটে গিয়েছিলেন তার কাছে। এরশাদকে তারা পরামর্শ দিয়েছিলেন- স্যার, একটা আর্ন্তজাতিক ফুটবল টুর্ণামেন্টের উদ্যোগ নিন। দেখবেন ফুটবলের জোয়ারে সব আন্দোলন ভেসে যাবে। এমন আয়োজনের প্রস্ত্ততিও শুরু হয়েছিল। কিন্ত্ত শেষ পর্যন্ত তা আর হতে পারে নি। তার আগেই এরশাদের পতন। নেইমারের মতো তারকা থাকলে ব্রাজিলের নীতি নির্ধারকদের মতো এরশাদও কোনো ফন্দি ফিঁকির করতে পারতেন। যদিও ফুটবলের ওই কর্মকর্তারা ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে এখনও আসীন বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন অথবা এসোসিয়েশনে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের সন্ত্তষ্ট রাখার চেষ্ঠা তারা এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। খেলোয়াড়, তারকা তৈরির চেষ্ঠা না করে তারা মাঝে মাঝেই বিগবাজেটে প্রতিযোগিতা আয়োজন করেন। কিন্ত্ত এগুলো সাড়া ফেলেনা। কিভাবে ফেলবে বলুন, তারকা না থাকলে, দল সফল না হলে মানুষ কি আর মাঠমুখী হয়?
১৩-০৬-২০১৪

ব্রাজিল বিশ্বকাপ ২০১৪

ব্রাজিলিয়ানদের ‘আর্জেন্টিনা’, ‘আর্জেন্টিনা’ এবং ম্যারাডোনার হতাশা

শহিদুল আজম : ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা। নেইমার বনাম মেসি । সারা বিশ্বের ফুটবল অনুরাগীরা শেষ ...

বিশ্বকাপ এবং সু-অভ্যাস, কুঅভ্যাস

শহিদুল আজম :  অভ্যাস বলে কথা । সেটি সুঅভ্যাস হতে পারে। আবার কু-অভ্যাসও হতে পারে। আমাদের ...

ব্রাজিলের নারী সমর্থকরাই এগিয়ে

বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই ম্যাক্সিকোর সাথে ড্র করেছে ব্রাজিল। এ ফলাফলকে অঘটন হিসেবেই বিবেচনায় নিতে ...